• Facebook
  • Yahoo
  • Google
  • Live
Mehedi Hasan
by on April 9, 2019
248 views

সাম্প্রতিক অগ্নিকান্ড থেকে ইসলামের শিক্ষা

প্রথমে চকবাজার,  এরপরে গুলশান ডিসিসি মার্কেট, বনানীর আইফেল টাওয়ার । সবশেষে খিলগাও বস্তিতে আগুন।একের পর এক দুর্ঘটনা সমস্ত জাতিকে করেছে শোকে মুহ্যমান।  
বাতাসে পুড়া লাশের গন্ধ।ঘটনাস্থল আশপাশ থেকে স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে উঠে।
আজ থেকে আট বছর আগে ও
 নিমতলীতে অনুরূপ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছিল। তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকান্ডের ঘটনাও কিন্তু ভুলে যাওয়ার মতো নয়।এসব দুর্ঘটনার জন্য যারা আহত বা নিহত হয়েছেন তারা কিন্তু এজন্য দায়ী নন।তার নিরপরাধ অন্যের দোষে দোষি।এজন্য দায়ী সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে সরকার পর্যন্ত সবাই।একের পর দুর্ঘটনার  পুনরাবৃত্তি ঘটলেও ঘুম ভাঙে না আমাদের। এসব দুর্ঘটনা থেকে ইসলামী শরীয়ার আলোকে অনেক শিক্ষা রয়েছে আমাদের জীবনে।
নিচে সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা করা হল।

বিপদ-আপদ মুমিনের জন্য পরীক্ষা;
মুমিনের গোটা জীবনেই প্রতিটি ঘাতে ঘাতে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। 
আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ ‘অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফলফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের। যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয়ই আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাব। তারা সেসব লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই হেদায়েতপ্রাপ্ত।’ (সূরা বাকারা : ১৫৫-১৫৭)। 
তাই আমাদের কর্তব্য হবে, ধৈর্যধারণ ও দোয়া করা। আর নবী করিম (সা.) এর এই বাণীর কথা স্মরণ করা। জাবের বিন আতিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের প্রশ্ন করলেন, তোমরা শাহাদত (শহীদি মৃত্যু) বলতে কী বুঝে থাক? তারা বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদে নিহত হওয়াকেই আমরা শাহাদত মনে করি।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেনÑ ‘আল্লাহর পথে নিহত হওয়া ব্যতীত সাত ধরনের শাহাদত রয়েছে। ১. প্লেগ-মহামারিতে যে মারা যায়, সে শহীদ। ২. পানিতে ডুবে যে মারা যায় যায়, সে শহীদ। ৩. শয্যাশায়ী অবস্থায় যে মারা যায়, সে শহীদ। ৪. পেটের পীড়ায় যে মারা যায়, সে শহীদ। ৫. আগুনে পুড়ে যে মারা যায়, সে শহীদ। ৬. ভূমি, ভবন বা দেয়াল ধসে যে মারা যায়, সে শহীদ। ৭. যে নারী গর্ভধারণে বা প্রসবজনিত কষ্টে মারা যায়, সে শহীদ।’ (আবু দাউদ : ৩১১১; নাসাঈ : ১৮৪৬)।
সুতরাং এ অগ্নিকা-ে নিহতরা ইনশাআল্লাহ শহীদের মর্যাদা পাবেন। নিহত মোমিনরা হবেন শহীদের মর্যাদাভুক্ত। তবে ইসলামের জন্য রক্তদানকারী মূল শহীদের সঙ্গে মর্যাদাগত পার্থক্য আছে। দুর্ঘটনাকবলিত শহীদদের গোসল দেওয়া হবে। 

জাহান্নামের আগুনের কথা বেশী বেশী স্মরণ করা; দুনিয়ার এই ভয়াবহ আগুন আখিরাতের তুলনায় নিতান্তই তুচ্ছ। আবু হুরায়রা  (রা.)  বলেন, রাসূল(সা.) বলেছেন, তোমাদের ব্যবহৃত আগুনের উত্তাপ জাহান্নামের আগুনের উত্তাপের সত্তর ভাগের এক ভাগ মাত্র। বলা হ’ল, হে আল্লাহর রাসূল(সা.) ! জাহান্নামীদের শাস্তি প্রদানের জন্য দুনিয়ার আগুনই তো যথেষ্ঠ ছিল। নবী করীম(সা.) বললেন, দুনিয়ার আগুনের উপর তার সমপরিমাণ তাপসম্পন্ন জাহান্নামের
 আগুন আরো ঊনসত্তরগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে (বুখারী, মুসলিম, বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৪২১)।

দুনিয়ার তুচ্ছতা  উপলব্ধি করা:
নদীর এপাড় ভাঙে
ওপাড় গড়ে এইতো নদীর খেলা।
সকাল বেলার ধনীরে তুই
ফকির সন্ধ্যেবেলা।
এই ধরণের বড় বড় দুর্ঘটনাগগুলোতে সকালবেলার কোটিপতি ও সন্ধ্যায় ফকির হওয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল নয়।অথচ এই দুনিয়ার মোহে পড়ে ইসলামিক মৌলিক বিধানগুলো ও মাঝেমধ্যে পরিত্যাগ করতে ভয় পাই না।আল্লাহ বলেন-কিন্তু তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাক। অথচ আখিরাত উত্তম ও চিরস্থায়ী। (আ‘লা ১৬-১৭)।
এই সমস্ত বড় বড় বিপদআপদ গুলো আমাদের অতিরিক্ত দুনিয়ামুখিতা ত্যাগ  করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার শিক্ষা দেয়।

Be the first person to like this.