• Facebook
  • Yahoo
  • Google
  • Live
Mehedi Hasan
by on April 14, 2019
217 views
সময়ের তটভূমিতেই মানুষের জীবন রচিত। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত, জন্ম থেকে মৃত্যু এক অন্থহীন লীলা।আল্লাহ ও আমাদের নিদিষ্ট সময়সীমা বেধেই পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘সেখানে তারা (অপরাধীরা) চিৎকার করে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের আবার দুনিয়ায় প্রেরণ করুন। আগে যা করেছি, তা আর করব না। তখন আল্লাহ বলবেন, আমি কি তোমাদের এতটা সময় দিইনি, যাতে উপদেশ গ্রহণ করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীরাও আগমন করেছিল। অতএব, আজাব আস্বাদন কর। জালেমদের কোনো সাহায্যকারী নেই।’ (সুরা ফাতির : ৩৭)।
আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে পুরোনো একটা বছরের।
আগমন ঘটেছে বাংলা একটি নতুন বর্ষের।
সচেতন ও মেধাবী মাত্রই নববর্ষ মানেই নতুন ভাবনা,নতুন স্বপ্ন।
নতুন বছরের সফলতার জন্য ফিরে তাকাতে হবে পুরোনো বছরের ডায়রিতে।এতে জীবনের ডায়রিতে ধরা পড়বে অসংখ্য ভুল।এগুলো থেকে তওবা অনুশোচনা করে ফিরে আসতে হবে আল্লাহর পথে।
নতুন বছরের পরিবর্তনের সাথেই
সাথেই ক্যালেন্ডার পরিবর্তনের মধ্যেই মুমিনের দায়িত্ব শেষ নয়।
নিজেই দাড় করাতে হবে বিবেকের কাঠগড়ায়।
অন্যথায় সম্ভব নয় নিজেকে পরিবর্তন করা।
বিগত বছরের ব্যর্থতার কারণ কি ছিল,
নতুন বছরের সফলতার জন্য,
একজম মুমিন হিসেবে সময়ের পরিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে কাজ করতে পারি তার দৃঢ়সংকল্প গ্রহণ করতে হবে।
আমাদের দুনিয়ার জীবনটা হচ্ছে আখিরাতের শস্যখেত। যে কৃষক পরমসুখে দিনাতিপাত করে তার পক্ষে সোনার ফসল ঘরে তোলা সম্ভব নয়।যে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়তে পারে তার পক্ষেই ফসল তোলা সম্ভব হয়।আমাদের দুনিয়ার জীবনটা আখিরাতের তুলনায় খুবই সংক্ষিপ্ত। দুনিয়ার তুচ্ছতা সম্বন্ধে এক হাদিসে বলেছেন-জাবের (রা.) হতে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ (সা.)একটি কান কাটা মৃত বকরীর বাচ্চার নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে এটাকে এক দিরহামের বিনিময়ে নিতে পছন্দ করবে? তারা বললেন, আমরা তো এটাকে কোন কিছুর বিনিময়েই নিতে পসন্দ করব না। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! এটা তোমাদের কাছে যতটুকু নিকৃষ্ট, আল্লাহর কাছে দুনিয়া (এবং তার সম্পদ) এর চাইতেও অধিক নিকৃষ্ট’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৫৭)।
গতবছরেও নতুন বছরের শুরুতে অনেক মানুষ ছিল।আজ তারা নেই।চলে গেছে না ফেরার দেশে।
এই বছর হয়তো আমরা অনেকে বেঁচে আছি।আগামী বছর নাও বেঁচে থাকতে পারি। গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে না দিয়ে আমাদের জীবনটাকে আল্লাহর মহা নেয়ামত ভেবে বেশী বেশী আল্লাহর সন্তুষ্টিতে কাজে লাগানো।রাসুল (সা.) বলেন, ‘বুদ্ধিমান সে ব্যক্তি, যে নিজের জীবনের হিসাব নেয় এবং মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য পুঁজি সংগ্রহ করে।’ (মুস্তাদরাক)। ইবনে ওমর (রা.) বলতেন, ‘তুমি সকালে উপনীত হলে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেঁচে থাকার অপেক্ষা কর না এবং সন্ধ্যায় উপনীত হলে সকাল পর্যন্ত জীবিত থাকার আশা কর না। আর সুস্থ থাকা অবস্থায় অসুস্থ সময়ের জন্য আমল করে নাও এবং জীবন থাকতে মৃত্যু-পরবর্তী সময়ের পুঁজি সংগ্রহ কর।’ (বুখারি)
আমাদের দেশে এমন অনেক কাজ সংগঠিত হয় যেগুলো ইসলাম ধর্ম ও আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী। এগুলো থেকে নিজেদের বিরত রাখতে হবে।
1 person likes this.