• Facebook
  • Yahoo
  • Google
  • Live
Afsana Hossain
by on October 27, 2019
373 views

দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় এবং পরীক্ষা দেওয়াই জীবন-মৃত্যু সৃষ্টির আসল উদ্দেশ্য। আলল্গাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য। কে তোমাদের মধ্যে কর্মে সর্বোত্তম? আর তিনি পরাক্রমশালী, বড় ক্ষমাশীল (সুরা মুলুক, আয়াত-২)। আলল্গাহর পথে চলতে গিয়ে ও আলল্গাহর বিধান মানতে গিয়ে অনেক ধরনের ত্যাগ ও বিপদের সম্মুখীন হয়েছি। এর বিনিময় আমরা কখনও অভাব-অভিযোগ করিনি। সবসময় সবরের পরিচয় দিয়েছি। এসব শুনে ফেরেশতারা বলবে, মারহাবা, আপনাদের আমলের যথার্থ প্রতিদানই আপনারা পেয়েছেন।' এদের সম্পর্কেই আলল্গাহতায়ালা বলেছেন, 'ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান বিনা হিসেবে দেওয়া হবে' (সুরা আজ-জুমার :১০)।

সবর মুমিনের জীবনের একটি অপরিহার্য গুণ। সবর আরবি শব্দ। সবর শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো- ১. আল হাবসু (আটকে রাখা); ২. (আল মানয়ু) বাধা দেওয়া; ৩. ধৈর্যধারণ করা। ইবনুল মুবারক (রহ.) বলেন, সবর হচ্ছে যা কিছু আলল্গাহর পক্ষ থেকে ঘটে বলে বান্দা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেওয়া এবং এর জন্য আলল্গাহর কাছে পুরস্কার কামনা করা। আলল্গাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ঘোষণা করে দাও (আমার এ কথা) হে আমার বিশ্বাসী দাসগণ, তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো। যারা এ পৃথিবীতে কল্যাণকর কাজ করে, তাদের জন্য আছে কল্যাণ। আর আলল্গাহর পৃথিবী প্রশস্ত। ধৈর্যশীলদের তো অপরিমিত পুরস্কার দেওয়া হবে (সুরা যুমার, আয়াত-১০)। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ধৈর্যধারণের চেষ্টা করবে, আলল্গাহ তাকে ধৈর্যধারণের শক্তি দান করবেন। আর ধৈর্য অপেক্ষা অধিক উত্তম ও কল্যাণকর বস্তু আর কিছুই কাউকে দেওয়া হয়নি (বুখারি, ১৪৬৯)।

শূন্য থেকে অনন্যতায় উঠে যাওয়ার ইতিহাস যেমন পরীক্ষিত, তেমনি পুরনো। আর এর জন্য চাই নিশ্ছিদ্র ধৈর্য ও স্বপ্নে বাধা সাধনা। ধৈর্য ও সহিষুষ্ণতায় একবার যে বুক ভরে নিতে পেরেছে, বিজয় ও সফলতা তার পায়ে চুমু খেয়েছে বারবার। ধৈর্যশীলদের জন্য মহান আলল্গাহর ভালোবাসা অনিবার্য। আলল্গাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, নিশ্চয় আলল্গাহ সবরকারীদের সঙ্গে আছেন (সুরা বাকারা, আয়াত-১৫৩)। পৃথিবীতে মানুষের জীবন বড়ই বিচিত্র। পাঁচতলায় থেকেও কেউ যেমন দুঃখী হতে পারে। আবার কেউ গাছতলায় থেকেও সুখী হতে পারে। মানুষের জীবনে বহু রকমের দুঃখ-কষ্ট রয়েছে। তবে মুমিনের জীবনে দুঃখ-কষ্ট তো অনিবার্য। এই ঘোষণা আলল্গাহতায়ালা নিজেই কোরআনুল কারিমে ঘোষণা করেছেন। আলল্গাহ বলেন, আর আমরা অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব, যতক্ষণ না আমরা জেনে নিই তোমাদের মধ্যে জিহাদকারী ও ধৈর্যশীলদের এবং আমরা তোমাদের কর্মকাণ্ড পরীক্ষা করি (সুরা মুযাম্মিল-৩১)। এই দুঃখ-কষ্ট সবসময় মুমিনের জীবনে কল্যাণই বয়ে আনে।

রাসুলুলল্গাহ (সা.) বলেন, আলল্গাহ যার কল্যাণ চান তাকে বিপদে আক্রান্ত করেন (সহিহ বুখারি, হাদিস-৫৬৪৫)। অন্যত্র রাসুল (সা.) বলেন, আমি যখন আমার মুমিন বান্দার কোনো আপনজনকে মৃত্যু দিই আর সে সবর করে, তখন আমার কাছে তার একমাত্র প্রতিদান হলো জান্নাত (সহিহ বুখারি, হাদিস-৬৪২৪)। আসলে পৃথিবীতে দুঃখ-কষ্ট কার নেই? যদি আমাদের নবীজির জীবনীতে তাকাই; তিনি জগতের শ্রেষ্ঠতম সত্যবাদী। তা সত্ত্বেও বিরুদ্ধবাদীরা তাঁকে মিথ্যুক বলে গালি দিয়েছে। তাঁর মতো সুস্থ-নিখুঁত বুদ্ধি কার কখন ছিল? তথাপি তারা তাঁকে পাগল আখ্যায়িত করেছে। সর্বকালের সর্বোত্তম সারগর্ভ কথা তিনিই বলতেন। তারপরও তাঁর অমূল্য কথাকে অসার কল্পনা ঠাওরানোর মতলবে তাঁকে কবি বলে কটাক্ষ করত। মানুষের শ্রেষ্ঠতম দরদি বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিত। তাঁর পবিত্র শরীরে আঘাতের পর আঘাত করেছে, তাঁকে রক্তাক্ত করেছে। তাঁকে দেশছাড়া পর্যন্ত করেছে। আমরা এর চেয়েও অনেক ভালো আছি।

সবরের এ ফজিলতের দিকে তাকিয়ে কেউ আবার বিপদ চেয়ে বসে কি-না- হাদিস শরিফে সে বিষয়ে আবার সতর্কও করা হয়েছে। বিপদ তো এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়। সবরের সওয়াবের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না। মানুষ মাত্রই বিপদ থেকে দূরে থাকতে চায়। বিপদে পড়ে গেলে মুক্তি কামনা করে। এটাই স্বাভাবিক। ইসলামের শিক্ষাও তাই।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- হে লোকসকল, তোমরা শত্রুর মুখে পড়ার কামনা করো না। বরং আল্লাহর কাছে আফিয়াত ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করো। তবে যখন তোমরা শত্রুর মুখোমুখি হয়ে পড়বে তখন সবর করো (সহিহ বুখারি, হাদিস-২৯৬৫)।

লেখক: মেহেদী হাসান সাকিফ

Posted in: Education
Be the first person to like this.