• Facebook
  • Yahoo
  • Google
  • Live

মানব দেহে অতিরিক্ত ওজন থাকা কোন অবস্থাতেই সমীচিন নয়। সেটা পুরুষের হউক কিংবা নারীদের হউক। কিংবা যে কোন বয়সেরই হউক না কেন। অতিরিক্ত ওজনের কারনে মানবদেহে নানা প্রকার রোগ এসে বাসা বাধে। উল্লেখযোগ্য রোগ বা শারিরিক সমস্যা গুলোর মধ্যে অন্যতম হল উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, হার্টব্লকেজ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। একজন ডাক্টার আমাকে বলেছেন আমাদের দেশে প্রায় ১ কোটিরও বেশী মানুষ উক্ত তিনটি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর প্রকৃত কারণ হিসাবে তিনি আমাকে বললেন আমাদের দেশের মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন নয়। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা তুলনামুলকভাবে অনেক কম। এই নেতিবাচক মানুসিক অবস্থার জন্য অবশ্য অনেকগুলো কারণ রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হল ত্রুটিপূর্ণ জীবনশৈলী। মানুষ হয়ে গেছে এখন আরামপ্রিয় সেই সঙ্গে রয়েছে মানুষের ক্রটিপূর্ণ খাদ্যভ্যাস। এই অবস্থা থেকে বাচতে হলে প্রথমত প্রয়োজন ত্রুটিপূর্ণ জীবনশৈলীর ইতিবাচক পরিবর্তন। নিয়মিত ব্যায়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিয়মিত ব্যায়াম করা হলে মানবদেহে অতিরিক্ত ফ্যাট চর্বি ষ্টোর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। অতিরিক্ত ওজন যাদের আছে তাদের যদি হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিস থাকে তাহলে ভেবেচিন্তে যে সমস্ত ব্যায়াম তাদের ক্ষতি করবে না সেটি গ্রহণ করা দরকার। সকল ব্যায়ামই যে তাদের জন্য উপকারী তা কিন্তু নয়। থেরাপী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিলে ভাল হয়। ব্যায়াম সম্ভব না হলে নিয়মিত প্রত্যেহ ১ কিলোমিটার জোড়ে হাটার অভ্যাস করা প্রয়োজন।

কতিপয় প্রাকৃতিক পরামর্শ দেওয়া হল:

১. অতিরিক্ত ওজন এবং ওবেসিটি সমস্যা থাকলে যথাসম্ভব তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার এরিয়ে চলা উচিৎ।

২. বাহিরের ফাষ্টফুড জাতীয় খাবার (যে সমস্ত খাবার তেল দিয়ে ভাজা হয়) এই সমস্ত খাবার ও সেই সঙ্গে কোল্ড ড্রিংক জাতীয় পানীয় এরিয়ে চলতে পারলে ভাল।

৩. খাবারের সঙ্গে সর্বদা কুসুম গরম পানি অতিরিক্ত ওজন যাদের আছে এবং হৃদরোগীদের জন্য উপকারী প্রমানিত। সুতরাং খাবারের সঙ্গে নিয়মিত কুসুম গরম পানি গ্রহন করা উত্তম।

৪. প্রত্যেহ সকালে রাত্রে সালাত কিংবা কচি শসা অতিরিক্ত ওজন ও ওবেসিটি, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ যাদের আছে (চিকিৎসা বিজ্ঞানে) এই সমস্ত রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারী প্রমানিত। হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ এবং অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রনে সালাত বা শসার বিশেষ ভূমিকা অনস্বীকার্য। কারণ কারণ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমানিত হয়েছে যে, দেহের অতিরিক্ত ফ্যাট ও অতিরিক্ত বেড কলেষ্টরেল কমাতে শসা বিশেষ ভুমিকা পালন করে।

৫. দেহের অতিরিক্ত ফ্যাট, বেড কলেষ্টরেল ও অতিরিক্ত ওজন কমাতে টক দই একটি আদর্শ খাবার। নিয়মিত প্রভাতে ও রাতে টক দই খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া হৃদরোগ এবং উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে টক দইয়ের ভূমিকা রয়েছে।

৬. সালমন ফিস এর তেল দ্ধারা তৈরি ওমেগা-৩ অতিরিক্ত ওজন, ওবেসিটি, উচ্চরক্তচাপ এবং হৃদরোগীদের জন্য (চিকিৎসা বিজ্ঞানে) বিশেষ উপকারী প্রমানিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানী ওমোগ-৩ ক্যাপসুল আকারে বের করেছে, জানিনা তারা কতটুকো মান নিয়ন্ত্রন করতে পারছে। এছাড়া তিশিতেও ওমেগা-৩ পর্যাপ্ত পরিমান বিদ্যমান আছে। সামগ্রিকভাবে ওমেগা-৩ হৃদরোগ, অতিরিক্ত ওজন, ওবেসিটি, উচ্চরক্তচাপ রোগী সহ সকল মানুষের জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটি ফ্যাটি এসিড। ওমেগা-৩ বিষয়ক প্রায় কয়েক লক্ষ ওয়েব সাইট ও কয়েক কোটি আটিক্যাল রয়েছে বিস্তারিত জানতে ইন্টারনেটে এই সমস্ত ওয়েবসাইট ভিজিট করা যেতে পারে। এই বিষয়ে গুগল সার্চ ইঞ্জিনের কিওয়ার্ড হল (হেল্থ বেনিফিট অফ ওমোগ-৩)

৭. এক হারবাল বিজ্ঞানী মতে এককাপ কুসুম গরম পানির সঙ্গে এক চা চামচ পরিমান আদার রস প্রত্যেহ সকাল বিকাল সেবন করলে অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে।

 

Be the first person to like this.