Categories

  • Facebook
  • Yahoo
  • Google
  • Live

Posted: 2020-02-08 19:59:19

পরকীয়া প্রেমের জের ধরেই বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় রংমিস্ত্রি সেলিম প্রামাণিককে গলা কেটে হত্যার পর আগুনে পোড়ানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বগুড়ার পুলিশ সুপার। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়ায় প্রেমিককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে প্রেমিকা। কথিত প্রেমিকা রুপালী ও তার বাবা আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া ও জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল সীমান্তবর্তী এলাকার দুপচাঁচিয়া থানার বড়কোল গ্রামের ফসলের মাঠে আগুনে পোড়া অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের সময় ছয়টি কনডম ও একটি চাকু উদ্ধার করে। নিহত সেলিম প্রামানিক পেশায় রঙমিস্ত্রি ছিলেন। তিনি দুপচাঁচিয়া উপজেলার খিদিরপাড়া গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁঞা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মরদেহ উদ্ধারের দিন থেকে ডিবিসহ পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একই গ্রামের রুপালী বেগম ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করে। হত্যার সঙ্গে জড়িতরা নিহত ব্যক্তিকে যেন শনাক্ত করা না যায় সে জন্য তারা সেলিমের পুরো মুখ স্কচটেপ দিয়ে পেচিয়ে পুরো শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। স্কচটেপের কারণে নিহতকে শনাক্ত করতে অসুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু নিহতের পরিবার তার পরনের বাম হাতের পাঞ্জাবির একটি অংশ দেখে তাকে শনাক্ত করে। এরপর জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রাথমিকভাবে তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা এবং হত্যার কারণ জানিয়েছে।

রুপালীর স্বামী দেড় বছর যাবত সৌদি আরব থাকেন। নিহত সেলিম এবং রুপালীর মধ্যে ছোট বেলায় প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্ত তাদের দুজনের বিয়ে অন্যত্র হলেও মোবাইলে যোগাযোগ অব্যহত ছিল। রুপালীর স্বামী বিদেশ চলে যাওয়ার পর দুজনের পরকীয়া আরো গভীর হয়। তারা বিভিন্ন সময়ে একান্তে মিলিত হয়। একপর্যায়ে সেলিম রুপালীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু রুপালী প্রস্তাব নাকচ করে। সেলিম আগে থেকেই তাদের একান্তে মিলিত হওয়ার দৃশ্যগুলো গোপনে ভিডিও করে রাখে। রুপালী সেলিমকে বিয়ে করতে অস্বীকার করলে ক্ষুদ্ধ হয় সেলিম। ইমোর মাধ্যমে সেলিম ও রুপালীর একান্তে মিলিত হওয়ার দৃশ্য সেলিম সৌদিতে অবস্থানরত রুপালীর স্বামী ইকরামুলের কাছে পাঠায়। রুপালীর স্বামী ইকরামুল বিষয়গুলো রুপালীকে জানায়। রুপালী সেলিমকে সন্দেহ করে এবং তাকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করতে থাকে। সেলিম রুপালীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে থাকে এবং হুমকি দেয় যে তাকে বিয়ে না করলে তার কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে। এ বিষয়গুলো নিয়ে রুপালী তার বাবা আব্দুর রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং সেলিমকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করতে থাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেলিমকে খুন করার জন্য রুপালীর পূর্বপরিচিত একজন খুনির সঙ্গে পরামর্শ করে বিয়েতে রাজি হওয়ার পাশাপাশি পূর্বপরিচিত খুনির সঙ্গে খুনের কাজে ব্যবহৃত উপকরণাদি কেনার জন্য দুই হাজার টাকা দেয়।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রুপালী পালিয়ে তার বান্ধবীর বাড়ি গিয়ে বিয়ে করার জন্য সেলিমকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়। তারপর তারা গোপনে বাড়ি থেকে বের হয়ে ভ্যানযোগে চার-পাঁচ কিলোমিটার গিয়ে পাকা রাস্তা থেকে নেমে হেঁটে মাটির রাস্তা দিয়ে জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল থানার বেরুজ গ্রামের দিকে যেতে থাকে। এর মধ্যে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রুপালীর বাবা এবং তার সহযোগী তিনজন রুপালী ও সেলিমকে ডেকে রাস্তা থেকে মাঠের মধ্যে নিয়ে যায়। রুপালী সেলিমকে তার বাবা ও সহযোগী খুনিদের হাতে তুলে দিয়ে বাড়ি চলে যায়। আব্দুর রহমান ও তার সহযোগী খুনিরা সেলিমকে বড়কোল ও বেরুজ গ্রামের মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে আসামিরা সেলিমকে হাত পা বেঁধে মুখ ও মাথা স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।

এরপর লাশ যেন কেউ চিনতে না পারে সে জন্য সেলিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ তার অন্যান্য পরিধেয় জিনিপত্র তার বুকের ওপর রেখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার পূর্বে হত্যাকাণ্ড  ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য ছয়টি কনডম ঘটনাস্থলের পাশে ফেলে যায়।

গ্রেপ্তারদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

(ঢাকাটাইমস/৮ফেব্রুয়ারি/কেএম/এলএ)

  • 0 Comment(s)
Be the first person to like this.